ময়ূর সিংহাসন কি । ময়ূর সিংহাসনের উপর একটি টীকা লিখ

1 Nov, 2023
ময়ূর সিংহাসন কি । ময়ূর সিংহাসনের উপর একটি টীকা লিখ

ময়ূর সিংহাসন কি । ময়ূর সিংহাসনের উপর একটি টীকা লিখ

উত্তর : ভূমিকা : ময়ূর সিংহাসন মুঘল সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত একটি অনিন্দ সুন্দর সিংহাসন। এটি শাহজাহানের স্থাপত্য সৌন্দর্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। যদিও এই সিংহাসন নাদির শাহ কর্তৃক লুট হয়েছিল। বর্তমানে এটি ইংল্যান্ডের যাদুঘরে রক্ষিত আছে।

→ ময়ূর সিংহাসন : মুঘল স্থাপত্যের এক অনুপম নিদর্শন ময়ূর সিংহাসন। মুঘল সম্রাট শাহজাহানের সময়ে ১৭ শতকের দিকে এই সিংহাসনটি তৈরি করা হয়। সম্রাট শাহজাহানের বিখ্যাত এই সিংহাসনটিকে ময়ূর সিংহাসন বলা হত।

কারণ এই সিংহাসনটির পেছনে দুটি ময়ূর আকৃতির নকশা তৈরি করা ছিল। যা দেখলে মনে হত সিংহাসনটির পিছনে দুটি ময়ূর দাঁড়িয়ে আছে।

পেখম ছড়ানো সেই ময়ূর নকশাটির গায়ে নীলকান্ত মণি, পান্না, চুনি, মুক্তাসহ নানা ধরনের পাথরের নিখুঁত কারুকাজ করা ছিল।

পারস্য ভাষায় ময়ূর সিংহাসনকে বলা হয় তখত-ই-তাউস। মুঘল সাম্রাজ্যের সময়ও এটিকে এই নামেই ডাকা হতো। দুর্লভ রত্ন ‘কোহিনূর’ খচিত ছিল এ সিংহাসনটিতে।

সম্রাটের তৎকালীন রাজকবি কুদসির বিশ জোড়া চরণের একটি কবিতা পান্নার অক্ষরে সিংহাসনে খোদাই করা ছিল। দিল্লি সফরকালে ১৬৬৫ সালে ফরাসি জহুরি টেভার্নিয়ার ময়ূর সিংহাসন সম্পর্কে একটি বর্ণনা প্রদান করেন।

তিনি বলেন, ময়ূর সিংহাসনের দৈর্ঘ্য ছিল ৬ ফুট ও গ্রন্থ ছিল ৪ ফুট। সিংহাসনের পায়াগুলো ছিল সোনার তৈরি। যেগুলোর উচ্চতা ছিল ২০ থেকে ২৫ ইঞ্চি।

চারপাশ থেকে ১২টি থামের সাহায্যে চন্দ্রাকার শামিয়ানা দেয়া থাকত এই আসনের উপরিভাগে। নিচের রেলিংগুলো পান্না, চুন্নি, হীরা এবং মুক্তার সমারোহে ছিল মনোহারী।

সর্বমোট ১০৮টি বড় চুন্নি পাথর এবং ১১৬টি পান্না ব্যবহৃত হয়েছিল সিংহাসনটিতে। ১৭৩৮ সালে নাদির শাহ মুঘল সাম্রাজ্য আক্রমণ করেন।

তিনি সম্রাট মোহাম্মদ শাহকে পরাজিত করে দেশে ফেরার সময় অন্যান্য ধনরত্নের সঙ্গে ময়ূর সিংহাসনটিও নিয়ে যান।

নাদির শাহ নিহত হওয়ার পর ৭৪৭ সালে ব্রিটিশরা এটি চুরি করে নৌপথে দক্ষিণ আফ্রিকায় নিয়ে যাওয়ার পথে তাদের জাহাজ ডুবি ঘটে বলে কথিত আছে।

See also  নবাব সিরাজ উদ্ দৌলার চরিত্র কেমন ছিল

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, মুঘল স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন সম্রাট শাহজাহান কর্তৃক নির্মিত ময়ূর সিংহাসন। এটি মণিমুক্তাখচিত বিশ্ববিখ্যাত এক সিংহাসন। এটি বর্তমানে ইংল্যান্ডের যাদুঘরে রক্ষিত আছে।

Rk Raihan

আমি আরকে রায়হান। আমাদের টার্গেট হল ইন্টারনেটকে শেখার জায়গা বানানো। আরকে রায়হান বিশ্বাস করেন যে জ্ঞান শুধুমাত্র শেয়ার করার জন্য তাই কেউ যদি প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছু জানে এবং শেয়ার করতে চায় তাহলে আরকে রায়হান পরিবার তাকে সর্বদা স্বাগত জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Category