(অজানা তথ্য) বাবুই পাখি সম্পর্কে ১০টি বাক্য বৈশিষ্ট্য জেনে নিন

3 Nov, 2023
(অজানা তথ্য) বাবুই পাখি সম্পর্কে ১০টি বাক্য বৈশিষ্ট্য জেনে নিন

বাবুই পাখি সম্পর্কে ১০টি বাক্য – বাবুই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম হলো- Ploceous benghalensis এবং ইংরেজি নাম Black-breasted Weaver। বাবুই পাখি প্রাণী জগতের কর্ডাটা পর্বে অন্তর্ভুক্ত।

এদের (Ploceidae) গোএের প্যাসারাইন দলের পাখি বলা হয়। বাবুই পাখির খুব সুন্দর করে বাসা তৈরি করার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা আছে বলে তাদেরকে (তাঁতি পাখি) অথবা weaver bird বলে আখ্যায়িত করা হয়। বাবুই পাখির বাসার আকৃতি খুবই কঠিন এবং মজবুত হয়ে থাকে।

তারা তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একের অধিক কক্ষ বিশিষ্ট বাসা তৈরি করতে সক্ষম। বাবুই পাখির ঠোঁট কিছুটা তীরের মত হওয়ায় তারা বীজ ভক্ষণ করতে সুবিধা পায়। এই পাখিগুলোর আবাস বেশিরভাগ আফ্রিকার দিকেই দেখা যায়। এমনকি এশিয়ার মধ্যে কয়েক প্রজাতির বাবুই পাখি রয়েছে।

বাবুই পাখি সম্পর্কে ১০টি বাক্য:

আজকের এই পোস্টটি পড়ার মাধ্যমে আপনি বাবুই পাখি সম্পর্কে ১০টি বাক্য জানতে পারবেন।

১. বাবুই পাখির শারীরিক গঠন

পুরুষ প্রজাতির বাবুই পাখির শারীরিক গঠন ভিন্ন রংয়ের হয়ে থাকে। এমনকি কিছু প্রজাতির বাবুই পাখি রয়েছে যাদের প্রজননের সময় বাহ্যিক রং পরিবর্তিত হয়।

২. বাবুই পাখির বাসস্থান

বাবুই পাখির পা বাসা দেখতে উল্টে থাকা কলসের মতো। বাবুই পাখি তার বাসা তৈরির জন্য প্রচুর পরিমাণে শ্রম দিয়ে থাকে। যেহেতু ঘাস দিয়ে তার বাসাটি তৈরি করা হয় সে তার ঠোঁট দিয়ে ঘাস সংগ্রহ করে। এমনকি ঠোট দিকে ঘাসের গোলাকার আকৃতি তৈরি করে।

See also  (অজানা তথ্য) পাহাড়পুর সম্পর্কে ১০টি বাক্য তথ্য রচনা জেনে নিই

বাসা তৈরির শুরুর দিকে দুটি গর্ত করা হয়। পরে একটি গর্ত ডিম রাখার জন্য ঢেকে দেওয়া হয়। বাসার ভিতরে ঢোকার জন্য লম্বা করে একটি রাস্তা তৈরি করা হয়। বাবুই পাখি তার বাসাকে রাত্রিবেলা আলোকিত করার জন্য জোনাকি ধরে আনে।

পাখিবিশেষজ্ঞ এস আই সোহেল বলেছেন, “বাবুই পাখি তাল, নারকেল, সুপারি, খেজুর ও বাবলা গাছে বাসা করে থাকে। তবে বাসা বাঁধার জন্য সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে তালগাছ। কিন্তু তালগাছ কেটে তাদের আবাসন আমরা ইতোমধ্যেই নষ্ট করে ফেলেছি।”

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্য এম এ তাহের বলেন, “আমি এই প্রথম দেখলাম বাবুই পাখি কলা গাছের ডালে এবং কাশবনে বাসা বানাচ্ছে; আর কেউ দেখেছে কি না, আমার জানা নেই। এ থেকেই বোঝা যায় কতোটা বিপন্নতার কাতারে চলে যাচ্ছে বাবুই পাখি। প্রকৃতি না বাঁচলে মানুষ বাঁচবে কীভাবে?”

৩. বাংলাদেশে বাবুই পাখির ধরন

বাংলাদেশে প্রায় তিন ধরনের বাবুই পাখির অস্তিত্ব লক্ষ্য করা যায়। তিন ধরনের বাবুই পাখি গুলো হলো-

  • দেশি বাবুই পাখি (Ploceus philippinus)
  • দাগি বাবুই পাখি (Ploceus manyar)
  • বাংলা বাবুই পাখি (Ploceus benghalensis)

৪. বাবুই পাখির বিলুপ্তির কারণ

আমাদের দেশে বাংলা বাবুই পাখি ও দাগি বাবুই পাখি প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশি বাবুই পাখি অনেকটাই রয়ে গেছে। কারণ দেশি বাবুই পাখি গ্রাম অঞ্চলের নারকেল গাছ, খেজুর গাছ, তালগাছ এবং রেইনট্রি গাছে দল বেঁধে বাসা বানিয়ে বসবাস করছে। এটা সাধারণত মানুষের আশেপাশে বসবাস করতে ভালোবাসে।

তাই অনেক সময় দেখা যায় মানুষ যে সকল স্থানে বসবাস করছে সেখানে যদি গাছপালা থাকে তাহলে মানুষের কাছ থেকে প্রায় চার পাঁচ ফুট উপরে এদের বাসা দেখা যায়।

কিন্তু মানুষ অসচেতনতার কারণে অনেক সময় ভুলবশত বাবুই পাখির বাসা ভেঙে ফেলেছে তাই আমাদের দেশ থেকে বাবুই পাখিরা বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

See also  সুনাগরিকের ১০টি বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি

৫. বাবুই পাখির প্রজাতি

দেশি বাবুই পাখি: দেশি বাবুই পাখির ঠোঁট ও দেহ বাদামী রংয়ের হয়ে থাকে।

  • এদের দেহের দৈর্ঘ্য ১৫ সেন্টিমিটার
  • ওজন ২৮ গ্রাম
  • ডানা ৭.৪ সেন্টিমিটার
  • ঠোঁট ১.৮ সেন্টিমিটার
  • লেজ ৪.৮ সেন্টিমিটার

প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে দেশি বাবুই পাখির চেহারা মেয়ে দেশি বাবুই পাখির তুলনায় দেখতে ভিন্ন হয়।

দাগি বাবুই পাখি : দাগি বাবুই এর ইংরেজি প্রতিশব্দ (Streaked Weaver)। বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে এই পাখিগুলো ডোরা বাবুই অথবা রেখা বাবুই হিসেবে পরিচিত। অজয় হোম নামক একজন পক্ষীবিষয়ক এই পাখির নাম দিয়েছেন তেলে বাবুই।

বাংলা বাবুই পাখি : বাংলা বাবুই পাখি বলতে এমন পাখিকে বোঝানো হয় যে বাবুই পাখিগুলো আমাদের বাংলাদেশে বেশি লক্ষ্য করা যায়।

৬. বাবুই পাখির বাসা তৈরির উপকরন

বাবুই পাখির বাসা তৈরির জন্য নলখাগড়া ও হোগলা নামক বন প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের দেশে এই দুটি বনের অভাব দেখা দিয়েছে। বাবুই পাখিরা যেহেতু নলখাগড়া ও হোগলা বনে বসবাস করে। কিন্তু এই বনে মানুষের চলাফেরা অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় পাখিরা তেমন একটা ভালোভাবে বসবাস করতে পারছে না।

গ্রীষ্মকাল তাদের প্রজনন কাজ সম্পন্ন করার ঋতু। তারা এমন স্থানে বসবাস স্থাপন করে যে স্থানে তারা খুব সহজে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারবে এবং যে সকল স্থানে কাটাযুক্ত গাছপালা রয়েছে।

৭. কৃষিক্ষেএে বাবুই পাখির অবদান

ধান থেকে চালু উৎপাদিত হয়। চাল আমাদের দেশের মানুষের জন্য প্রধান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত।  ধান যদি পোকামাকড় মুক্ত না হয়ে উৎপাদন হয় তাহলে আমাদের খাদ্যাভ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কৃষি ক্ষেত্রে বাবুই পাখি বিশেষ ভূমিকা পালন করে যা অনেক সময় কৃষকদের অজানাই রয়ে যায়।  বাবুই পাখি কৃষি কাজে ধানের মারাত্মক ও ক্ষতিপূর পোঁকামাকড় গুলো খেয়ে ফেলে যার ফলে ধান ক্ষতিকর পোঁকামুক্ত হয়ে উৎপাদন হয়।

See also  পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ১০টি দেশের নাম জানলে অবাক হবেন

৮. বাবুই পাখির প্রজনন কার্য

বাবুই পাখির প্রজনন কার্য সম্পন্ন করার জন্য সবচেয়ে বিশেষ সময় হচ্ছে গ্রীষ্মকাল। স্ত্রী বাবুই পাখি তিন থেকে চারটি করে ডিম দিয়ে থাকে। সেই ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বের হতে সম্ভবত ১৪ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে।

স্ত্রী  বাবুই পাখি ডিম দেয়ার পর ডিম থেকে যে বাচ্চা বের হয় সে বাচ্চার জন্য স্ত্রী বাবুই পাখি খাদ্য সংগ্রহ করে। ডিম থেকে যে বাচ্চা গুলো অথবা ছানাগুলো বের হয় তারা নিজেদের মত চলাফেরা করতে পনেরো থেকে ষোলো দিন সময় নিয়ে থাকে।

৯. বাবুই পাখির খাদ্য

বাবুই পাখিরা জীবনযাপন করার জন্য খাদ্য হিসেবে খাদ্যের শষ্য, ঘাস, পাতা, লতা, বীজ, ভাত, পোকা-মাকড়, মধু, রেনু ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারণ করে।

১০. বর্তমানে বাবুই পাখির স্থান ধনীদের ড্রয়িং রুমে

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে যে, বর্তমানে গ্রাম অঞ্চলের কিছু লোভী মানুষ ও অসাধু ব্যবসায়ীরা বাবুই পাখির বাসা কেটে শহরে ধনীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। ধনীরা সেই বাবুই পাখির বাসা গুলো তাদের ড্রইং রুমে শোপিচ অথবা ডেকোরেশন হিসেবে সাজিয়ে রাখছে।

আশা করা যায়, আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার ফলে আপনি বাবুই পাখির গুরুত্ব সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং বাবুই পাখির উপস্থিতি আমাদের সমাজে টিকিয়ে রাখার জন্য আপনারাও এগিয়ে আসবেন।

Rk Raihan

আমি আরকে রায়হান। আমাদের টার্গেট হল ইন্টারনেটকে শেখার জায়গা বানানো। আরকে রায়হান বিশ্বাস করেন যে জ্ঞান শুধুমাত্র শেয়ার করার জন্য তাই কেউ যদি প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছু জানে এবং শেয়ার করতে চায় তাহলে আরকে রায়হান পরিবার তাকে সর্বদা স্বাগত জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Category