সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি | সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য সমূহ উল্লেখ করো

11 Aug, 2023

সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য গুলো কি কি | সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য সমূহ উল্লেখ করো

উত্তর : ভূমিকা : মানুষ তার জ্ঞান-বুদ্ধি, কলাকৌশল ও নিজস্ব সৃজনশীল প্রচেষ্টার দ্বারা এবং বিজ্ঞানের আশীর্বাদপুষ্ট হয়ে যে সুন্দর জীবনব্যবস্থা গড়ে তোলে তার বাহ্যিক প্রতিফলই সংস্কৃতি।

সংস্কৃতি হলো একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনধারা। দেশ-কাল- পাত্রভেদে সংস্কৃতির ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। মানুষের ধ্যানধারণা, মূল্যবোধ ও পার্থিব উপকরণের সামগ্রিক রূপকেই বলা হয় সংস্কৃতি’। সংস্কৃতি হলো একটি জীবনপ্রণালি। সমাজের মানুষের জীবনযাত্রা প্রণালিই সংস্কৃতি ।

→ সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যসমূহ : সংস্কৃতি মানুষের ঐতিহ্য বহন করে। জাতিভেদে সংস্কৃতি ভিন্ন হয়ে থাকে। সংস্কৃতি বলতে বুঝায় মানুষের সৃষ্ট প্রতিবেশ আর তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে গড়ে ওঠা মানুষের আচার-আচরণ । নিম্নে সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো :

১. সংস্কৃতি শিখতে হয় : সংস্কৃতি আপনা থেকেই গড়ে উঠে না; বংশপরস্পরায় সংস্কৃতি প্রবহমান। সংস্কৃতি উত্তরাধিকারসূত্রে পরবর্তী বংশধরগণের নিকট পৌঁছে। কিন্তু পরবর্তী বংশধরগণ অভিজ্ঞতা, অনুশীলন ও চর্চার মাধ্যমে পূর্ববর্তী সংস্কৃতিকে রপ্ত করে সংস্কৃতিকে শিখতে হয়। জাতিভেদে সংস্কৃতি ভিন্ন প্রকৃতির হয়ে থাকে । একজন ব্যক্তিকে সংস্কৃতি অনুশীলন করতে হয়।

২. সংস্কৃতি হচ্ছে কাঠামোভিত্তিক : সংস্কৃতি শূন্যে অবস্থান করে না। সংস্কৃতির একটি কাঠামোভিত্তিক রূপ আছে। সেই রূপের মাধ্যমে সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটে। সংস্কৃতির এই রূপটি বস্তুগত বা অবস্তুগত উভয় ধরনেরই হতে পারে।

৩. সংস্কৃতি বিভিন্ন উপাদানে গঠিত : সংস্কৃতি বিভিন্ন উপাদান সহযোগে গঠিত হয়। মানবজীবনের বিভিন্ন দিক সংস্কৃতি গঠনে সাহায্য করে। মানুষের জৈবিক চাহিদা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এবং ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ সংস্কৃতি গঠন করে। বস্তুতপক্ষে এতগুলো উপাদান ছাড়া সংস্কৃতি হতে পারে না।

৪. সংস্কৃতি বিভাজনযোগ্য : সংস্কৃতি বিভিন্ন অংশ থাকতে পারে। সংস্কৃতি বিভিন্ন উপাদানসহযোগে গঠিত হয়। মানুষের ধ্যানধারণা, আচার-আচরণ ও সংগঠনের মাধ্যমে প্রকাশিত সংস্কৃতি সর্বযুগে সর্বস্থানে একই রূপ হয় না। সংস্কৃতি বিভাজনযোগ্য বলেই এরূপ হয় ।

See also  মুজিবনগর সরকার সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ | মুজিবনগর সরকার বলতে কি বুঝ

৫. সংস্কৃতি পরিবর্তনযোগ্য : জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি, রাষ্ট্রের কাজের ব্যাপকতা ও জটিলতা বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন ঘটার জন্য মানুষের আচার-আচরণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে পরিবর্তন দেখা যায়। সুতরাং, এগুলোর উপর ভিত্তি করে স্বাভাবিকভাবেই মানুষের সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটে ।

৬. সংস্কৃতি বিশ্লেষণযোগ্য : সংস্কৃতি এক বা একাধিক নিয়ম দ্বারা পরিচালিত হয়। সংস্কৃতি নিয়মবহির্ভূত কোনো বিষয় নয়। নিয়মানুবর্তী বৈশিষ্ট্যধারী কোনো বিষয়কে বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণ করাও তাই সহজ মাধ্যম। সুতরাং, সংস্কৃতিকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করা যায় একথা অনস্বীকার্য।

৭. সংস্কৃতি সৃষ্টিশীল প্রকাশভঙ্গি অর্জনে সহায়তা করে : সংস্কৃতি একটি যন্ত্র বা মাধ্যম বিশেষ। এই যন্ত্র বা মাধ্যমের সাহায্যে মানুষ সমাজে তার অবস্থান ও ভূমিকা সম্বন্ধে জ্ঞাত হয়। এর ভিত্তিতে সমাজে তার কতব্য কিরূপ হওয়া উচিত এ বিষয়টি সে নির্ধারণ কররে। তাই বলা যায় যে, সংস্কৃতি দ্বারা ব্যক্তি সামগ্রিক অবস্থা পুনর্বিন্যাস করে সৃষ্টিশীল প্রকাশভঙ্গি অর্জন করে।

৮. সংস্কৃতি গতিশীল ও সর্বত্র বিরাজমান : সংস্কৃতি স্থির থাকে না। আবার কোনো সমাজই সংস্কৃতির অবস্থানকে অস্বীকার করতে পারে না। সংস্কৃতি অপরিহার্যতার কারণে তা সর্বদাই গতিশীল ও সর্বত্রই বিরাজমান। বংশপরম্পরায় সব দেশে ও সব যুগে সংস্কৃতি তাই গতিশীল ও বিরাজমান ।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, সংস্কৃতি মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। আমরা যা তাই আমাদের সংস্কৃতি। সমাজভেদে সংস্কৃতি ভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। সংস্কৃতি হচ্ছে আমাদের জীবন পদ্ধতি, বৈশিষ্ট্য ও পরিচ্ছন্ন বাঙালি জাতির নিজস্ব সংস্কৃতি রয়েছে।

বাঙালির প্রধান খাদ্য ভাত-মাছ। সংস্কৃতির ধারক ও বাহক বিশেষ করে পল্লি অঞ্চলে। পল্লি হলো সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র । সংস্কৃতি অভ্যন্তরীণ চিন্তা বা অনুভূতির সাথে জড়িত।

Rk Raihan

আমি আরকে রায়হান। আমাদের টার্গেট হল ইন্টারনেটকে শেখার জায়গা বানানো। আরকে রায়হান বিশ্বাস করেন যে জ্ঞান শুধুমাত্র শেয়ার করার জন্য তাই কেউ যদি প্রযুক্তি সম্পর্কে কিছু জানে এবং শেয়ার করতে চায় তাহলে আরকে রায়হান পরিবার তাকে সর্বদা স্বাগত জানানো হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *